Pages

Monday, October 17, 2016

লর্ডসের ব্যালকনি

আগেরবার গোহারা হেরেছি। অন্তিম মুহূর্তে প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে সরে এসেছি নিজের অভীষ্ট থেকে, এবারও সেই একই পরীক্ষা, ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ আরো বেশি। কিন্তু বাধ সেধেছি স্বয়ং আমিই, এখন মরণপণ পাঞ্জা লড়ছি নিজের লোভের সাথে, ফলাফলের ওপর নির্ভর করে আছে আমার তিলতিল করে বেড়ে ওঠা, ভালো থাকা, মানুষ হওয়া, সর্বোপরি নিজের চোখে মাথা তুলে বাঁচা। ব্যর্থ হলে? ফলাফল ভয়ংকর। ফিরে আসার মতন সামর্থ্য থাকবে না। একটা লোক কতবার come back করতে পারে? সৌরভকেও তো একটা সময় বাধ্য হয়ে অবসর গ্রহণ করতে হয়েছিল। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই, আমার বিরুদ্ধে স্বয়ং আমিই।

হে ঈশ্বর, ননীদা যেন নট আউট থাকে।

Saturday, October 15, 2016

ব্যা-ঘাত, ব্যা-রাম ও ব্যা-করণ

আজ রাতে আলু খোসা ভাজা আর দুটো রুটি, সঙ্গে এক টুকরো পেয়াঁজ। বেশ পরিপাটি করে খেয়ে উঠেছি, একটা হৃষ্টপুষ্ট ঢেঁকুর সদ্য গলার কাছে এসে ঘাপটি মেরে বসেছে, ভাবখানা এই যে সুযোগ পেলেই সার্কাস থেকে ছাড়া পাওয়া বাঘের মতন ঘেঁয়াও বলে বেরিয়ে আসবে, এমন সময় যে ঘটনাটা ঘটলো তাতে ঢেঁকুরটা চক্ষের নিমেষে পেটের ভেতর সেঁধুলো।

হঠাৎ দেখি রামছাগলটা ব্যা-ব্যা করে মরাকান্না জুড়েছে। উত্তরের জানলার পাশে একটা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল সবুজ আলো, যেন বিয়েবাড়ির হ্যাজাক জ্বলছে। ব্যাপারটা বুঝে ওঠার জন্যে জানলার কাছে এগোতেই ছাগলটা পরিষ্কার বাংলা ভাষায় কেঁদে উঠলো, "ওগো কে কোথায় আছো, বাবু আর বাঁচবেনি গো।"
আমি গোয়েন্দা পোয়াবারো, জীবনে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, চরম বিপদেও হাত কাঁপেনি, আজ আমার রামছাগলকে বাংলায় বিলাপ করতে শুনে কেমন জানি হয়ে গেলাম। কিন্তু কয়েক মুহূর্তে সামলে নিয়ে আবার জানলার দিকে এগোতেই সবুজ হ্যাজাকটা দিনের আলোর মতন সাদা হয়ে গেল আর একটা উড়ন্তচাকী চক্ষের নিমেষে ছাদের কার্নিশ লক্ষ্য করে উঠে গেল।

এত ভারী মজা! ছাদে গিয়ে তন্নতন্ন করে চারদিক খুঁজে তার দেখা না পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে নিচে নামতেই ছাগলটা এগিয়ে এসে মিহি গলায় অভিমানের সুরে বললো, "বলি, অমন অবিবেচকের মতন সাতপাঁচ না ভেবে ছাদে উঠে যাওয়া কি ঠিক হলো গা?"

সেই থেকে ব্যাটা বকেই চলেছে! এই এখন আমার হাওয়াই চটিটা থেকে থেকে চেটে দেখছে আর আহ্লাদে ঘাড় নেড়ে নেড়ে বলছে, "বাঃ বাঃ, বেশ খেতে। বেশ খেতে।"

ব্যাটা উড়ন্তচাকী আমার সব্বনাশ করে গেল।

আলোয় কাটে অন্ধকার

আদুর বাদুড় চালতা বাদুড়,
কলা বাদুড়ের বে...
টোপর মাথায় দে।
দেখতে যাবে কে?
চামচিকেতে বাজনা বাজায়,
খ্যাংরা কাঠি দে।

আপাতত এই ছড়াটার ভেতরেই লুকিয়ে আছে কয়েক হাজার মেগাটন পারমাণবিক বোমা নিষ্ক্রিয় করার গুপ্ত সংকেত। গত দু-রাত দু চোখের পাতা এক করিনি। মস্কো থেকে টরে-টক্কায় জানতে পারলাম সোভিয়েত ইউরেনিয়াম ভান্ডার লুঠ করার চক্রান্ত চলছে, কোনো জঙ্গি রাষ্ট্রের হাতে গেলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। রক্তবীজের বংশধর, ধর্মযুদ্ধ চলছে। শরতের আকাশে উড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুশ বোমারু বিমান, এক অদৃশ্য অঙ্গুলীর ইশারায় জ্যা মুক্ত বাণের মতন আকাশ চিরে নিখুঁত লক্ষ্যে আঘাত হানবে নিশানায়, সকালে গোপন বৈঠক হয়ে গেল পাঁচ মিত্র শক্তির প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সাথে। তাদের ঠেকিয়ে রেখেছি মাত্র। আজ সন্ধের আগে ছড়াটার একটা নিষ্পত্তি করতে না পারলে রাতের অন্ধকারে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ দক্ষিণ চীন উপসাগরে চীনা বন্দর লক্ষ্য করে গোলা বর্ষণ শুরু করবে।

হে ঈশ্বর!

কবিতাটা এতবার আওড়েছি, দেওয়ালে টিকটিকিগুলো পর্যন্ত ঘুমিয়ে পড়লো। ওদের নাক ডাকা ধরার একটা যন্ত্র বানাতে হবে।

আর্থ কলিং মুন রকেট!

দুঁদে গোয়েন্দা পোয়াবারো, অন্ধকার জগতের ত্রাস, লালবাজারের গোয়েন্দা দপ্তর যাকে ছাড়া অচল, স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড যাকে ডেকে ডেকে হন্যে, সে দুপুরে খাবার খেয়ে ভাত ঘুম দিচ্ছে শোনার পর থেকে চৈনিক দস্যু দৃঘাংচু অস্বাভাবিক রকমের হাসাহাসি শুরু করেছে, ভাবখানা এই যেন ভাত ঘুম দিলে গোয়েন্দা হওয়া যায় না। যত দোষ আমার অত্যাধুনিক কলিং বেলটার। আমি কি করছি না করছি সব তার বাইরের লোককে জানানো চাই। সেদিন বালতির জলে সাবান মাখিয়ে পৈতেটা ভিজিয়েছি, রামছাগলটা থেকে থেকেই আনমনা হয়ে সেটা চিবোয় আর তার মুখের লালা মাখা পৈতে থেকে উৎকট গন্ধ বেরোয়। এমন সময় কলিং বেল বাজলো আর আমি দরজা খুলবোনা ভেবে গর্বের সঙ্গে তিনি সঙ্গে ঘোষণা করলেন, "বাবু ছাগলে-খাওয়া পৈতে ধুচ্ছেন, বিকেলে আসবেন।" ব্যাস পেট চেপে হাসতে হাসতে সেলসম্যানের পলায়ন।

ওটা লাগানোর উদ্দেশ্যটা মাঠে মারা গেল।

আজ দুপুরে কিঞ্চিৎ ভালো-মন্দ খেয়ে ফেলেছিলাম বলে চোখটা অসময়ে জড়িয়ে এসেছিলো। অতঃপর পৌরসভার মশার ওষুধ দেওয়ার লোকের ছদ্মবেশে দৃঘাংচুর লোকের আগমন, ভালোমানুষ সেজে কলিং বেল টেপা এবং আমার কলিং বেলের সদর্পে ঘোষণা, "বাবু গিলেকুটে হাঁ করে নাক ডাকছেন, দয়া করে বিকেলে আসুন!"

আজকেই ওটার নিকেশ করতে হবে।

Monday, October 3, 2016

বালতির জলে দু-ফোঁটা রামধনু মিক্স

কাল রাতে অসিমোলাস টেনাইফেলাম ইন্ডিকার দুটো বড়ি বালতির জলে ফেলে দিতেই জলটার রংটা বদলাতে বদলাতে কেমন রামধনুর মতন হয়ে গেলো নিমেষে। শেষে কিছুক্ষন ইতস্তত করে ডান হাতটা চোবালাম বালতির জলে, কেমন একটা শিরশিরে অনুভূতি, যেন কেউ হাজার হাজার আলপিন দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে আলতো করে। জল থেকে হাত তুলে সোল্লাসে যে চিৎকারটা করেছি, তারপর থেকে রামছাগলটা কিছু মুখে তুলছেনা, বোধয় একটা মাইল্ড শক পেয়েছে। আমার ডান হাতটা তরল জেলির মতন স্বচ্ছ হয়ে গেছে, এপার ওপর দিব্যি দেখা যাচ্ছে।

মোটের ওপর, আমার ছদ্মবেশে থাকার মোক্ষম অস্ত্র তৈরী।

আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে

আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম সাজে।
"সাজে তো সাজে বেশ করে, তাতে তোর দরকারটা কি শয়তান?"

এই নিয়েই সাত সকালে মাছের বাজারে হলধর সাঁপুই-এর সঙ্গে তুলকালাম বাঁধালো মেছো ঘোষাল। সেকি ঘন ঘন হুংকার আর মারণ আর্তনাদ, মেছো রক্তজল করা চোখে, গোটা কয়েক রুই-কাতলা মাড়িয়ে, আঁশবটি তুলেই ফেলেছিলো প্রায়। শেষ মুহূর্তে পাশ থেকে চিংড়ি-মন্টু তিতিবিরক্ত হয়ে বাছাবাছা কয়েকটা শ্রুতিমধুর শব্দ প্রয়োগ করায় থমকে যায়, নইলে নির্ঘাত আজ একটা রক্তারক্তি কান্ড হতো বাজারে।

হলধর সাঁপুই আমাদের কালীচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার স্যার। দোষের মধ্যে হলধর মেছোর দোকানে পার্শে মাছ কিনতে এসে এই ছেলে ভুলোনো ছড়াটা মনে মনে আওড়েছে, ব্যাস! পরে বিস্তর অনুসন্ধান করে জানলাম, মেছোর তিন মেয়ে, তাদের নাম আগডুম বাগডুম এবং ঘোড়াডুম! অতএব মেছো হলধরের মুখে নিজের মেয়েদের নামে কবিতা শুনে...

Saturday, October 1, 2016

পাতালপুরীর বিভীষিকা

মেট্রো করে বাড়ি ফিরছি। যদি দৃঘাংচুর লোক জানতে পারে, অতর্কিতে আক্রমণ এবং অচিরেই ঘ্যাচাং ফু। অর্থাৎ পোয়াবারোর এক পোয়াও অবশিষ্ট থাকবে না। এই যে আমার সামনের সিটে পক্ক কেশ, ঋজু চেহারার অধিকারী এই দাদুটি নিশ্চিন্তে ঝিমোচ্ছেন, কে জানে ইনিও দৃঘাংচুর লোক কিনা। একটা আলপিনের ডগায় এক ফোঁটা তিড্ডিমের রস মাখিয়ে পকেটে রেখে দিলেই আর দেখতে হচ্ছে না, নামবার অছিলায় ভিড়ের মাঝে ছোট্ট একটা খোঁচা, ব্যাস সারা গায়ে রাশি রাশি লোম, একেবারে লোমাক্রান্ত যাকে বলে।

একবার বর্মা মুলুকে এক দুর্ধর্ষ চৈনিক দস্যুর কবলে পরে রেঙ্গুন থেকে এক মালবাহী জাহাজে খালাসীর ছদ্মবেশে চলে যাই আফগান সীমান্তে, সেখানে মরুভূমির মাঝে একদল বেদুঈনের সাথে আলাপ হয়। আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশের লোক জেনে তাঁরা অত্যন্ত যত্নসহকারে আমাকে গামলা ভর্তি দুম্বার স্যুপ খেতে দেয়। কিন্তু সে সুখ বেশী দিন সইলো না, অচিরেই সেখানেও আমার পিছু ধাওয়া করে সেই চৈনিক দস্যু, এবং যথা সময়ে সুযোগ বুঝে তিড্ডিমের খোঁচা। ব্যাস, পাক্কা দু-মাস গোয়েন্দা পোয়াবারো to লোমশ গোরিলা। এমনকি পাড়ার কালী আর্ট সেলুনের নাপিত হারাধন-দা পর্যন্ত গোটা তিনেক কাঁচি ভেঙে আমাকে দেখলেই সেলুনের ঝাঁপ নামিয়ে দিত।

যাক, সন্দেহজনক দাদুটি এই মাত্র ভিড় ঠেলে নেমে গেলেন। তবে কি তার পাশে ঢুলু ঢুলু চোখে বসে থাকা কাকীমাটি...?