আজ রাতে আলু খোসা ভাজা আর দুটো রুটি, সঙ্গে এক টুকরো পেয়াঁজ। বেশ পরিপাটি করে খেয়ে উঠেছি, একটা হৃষ্টপুষ্ট ঢেঁকুর সদ্য গলার কাছে এসে ঘাপটি মেরে বসেছে, ভাবখানা এই যে সুযোগ পেলেই সার্কাস থেকে ছাড়া পাওয়া বাঘের মতন ঘেঁয়াও বলে বেরিয়ে আসবে, এমন সময় যে ঘটনাটা ঘটলো তাতে ঢেঁকুরটা চক্ষের নিমেষে পেটের ভেতর সেঁধুলো।
হঠাৎ দেখি রামছাগলটা ব্যা-ব্যা করে মরাকান্না জুড়েছে। উত্তরের জানলার পাশে একটা অস্বাভাবিক উজ্জ্বল সবুজ আলো, যেন বিয়েবাড়ির হ্যাজাক জ্বলছে। ব্যাপারটা বুঝে ওঠার জন্যে জানলার কাছে এগোতেই ছাগলটা পরিষ্কার বাংলা ভাষায় কেঁদে উঠলো, "ওগো কে কোথায় আছো, বাবু আর বাঁচবেনি গো।"
আমি গোয়েন্দা পোয়াবারো, জীবনে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি, চরম বিপদেও হাত কাঁপেনি, আজ আমার রামছাগলকে বাংলায় বিলাপ করতে শুনে কেমন জানি হয়ে গেলাম। কিন্তু কয়েক মুহূর্তে সামলে নিয়ে আবার জানলার দিকে এগোতেই সবুজ হ্যাজাকটা দিনের আলোর মতন সাদা হয়ে গেল আর একটা উড়ন্তচাকী চক্ষের নিমেষে ছাদের কার্নিশ লক্ষ্য করে উঠে গেল।
এত ভারী মজা! ছাদে গিয়ে তন্নতন্ন করে চারদিক খুঁজে তার দেখা না পেয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে নিচে নামতেই ছাগলটা এগিয়ে এসে মিহি গলায় অভিমানের সুরে বললো, "বলি, অমন অবিবেচকের মতন সাতপাঁচ না ভেবে ছাদে উঠে যাওয়া কি ঠিক হলো গা?"
সেই থেকে ব্যাটা বকেই চলেছে! এই এখন আমার হাওয়াই চটিটা থেকে থেকে চেটে দেখছে আর আহ্লাদে ঘাড় নেড়ে নেড়ে বলছে, "বাঃ বাঃ, বেশ খেতে। বেশ খেতে।"
ব্যাটা উড়ন্তচাকী আমার সব্বনাশ করে গেল।
No comments:
Post a Comment